Wiki information - wrong

Menampilkan kesemua 5 kiriman.
Kiriman 1
Shobuz menulispada 11 Januari 2009 jam 18:06
১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষ : Wikipedia বনাম বাস্তবতা
আবু তাশফীন

১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দূর্ভিক্ষে ১০ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। অথচ, উইকি অত্যন্ত দায়সারা ভাবে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমরা এখানে প্রমাণ সহকারের বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

Wiki information
ইংরেজী উইকির ১৯৭৪ সালের বাংলাদেশের এই দূর্ভিক্ষের উপর Bangladesh famine of 1974 শীর্ষক ৫-৬ লাইনের ছোট লেখাটি পড়ে যে কেউ ৭৪ এর দুর্ভিক্ষের ঘটনাকে গুরুত্বহীন মনে করবেন এবং ভূল তথ্য পাবেন। এর পেছনে যে প্রকৃতপক্ষে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসনের সীমাহীন দূর্নীতি ও লুটপাট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যকারী ভারত সরকারের লুটপাট - এরকম কারণগুলো মূলত দায়ী - উইকির নিবন্ধে সে সব কিছুই আসেনি।
উইকির নিবন্ধে দূর্ভিক্ষের জন্য দায়ী করা হয়েছে দু'টি কারণ:

১) a combination of natural disasters (cyclones, droughts and floods) in the early 1970's: আশ্চর্য ব্যাপার! ১৯৭০ এর ঘুর্নিঝড়ের পরপর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে এদেশের মানুষ না খেয়ে মরেনি। তাহলে ১৯৭০ সালের ঘুর্নিঝড়ের কারণে কেন ১৯৭৪ সালে মানুষ মরবে। পাগলেও একথা বিশ্বাস করবে না। আর কারণ যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে ১৯৭২-৭৪ পর্যন্ত ৩ বছরে বাংলাদেশ সরকার কি করেছিল? (এ আলোচনায় পরে আসছি)

২) various local and internationally influenced socio-political factors: the U.S. had withheld 2.2 million tonnes of food aid: মানুষ এতো কান্ডজ্ঞানহীন কিভাবে হয়? আমেরিকর সাহায্যের জন্য কেন আমাদের বসে থাকতে হবে? এরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, হেনরী কিসিন্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি উপাধি দিয়েছে, তারা পাকিদের দোসর -- কেন বাংলাদেশ সরকার আমেরিকার সাহায্যের আশায় বসেছিল? কেন ভারত-রাশিয়া-ইসরাঈল-ভুটান, যারা বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বীকৃতিদাতা, সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এলনা? এরাই তো তৎকালীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু!
মজার ব্যাপার হলো, socio-political factors গুলোর মধ্যে প্রকৃত কারণগুলো উইকি লিখেনি!

বাস্তবতা:
এবার আসুন দেখি ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের জন্য তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় আগ্রাসন কতটুকু দায়ী।
১) ৫০০০ কোটি টাকার সম্পদ ভারতে পাচার:
দুইশ বছরের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ যা পারেনি, ২৫ বছরে পাকিরা যা করার সাহস পায়নি, মাত্র ৩ বছরে হিন্দুস্হানী মাড়োয়ারী বঙ্গবন্ধুরা (!) তাই করেছে। লুটপাটের খতিয়ান:

ক. ধান-চাল-গম (৭০-৮০ লাখ টন, গড়ে ১০০ টাকা ধরে): ২১৬০ কোটি টাকা।
খ. পাট (৫০ লাখ বেলের উপরে): ৪০০ কোটি টাকা।
গ. ত্রাণ-সামগ্রী পাচার: ১৫০০ কোটি টাকা।
ঘ. যুদ্ধাস্ত্র, ঔষধ, মাছ, গরু, বনজ সম্পদ: ১০০০ কোটি টাকা।
-------------------------------------
সর্বমোট: ৫০০০ কোটি টাকা (প্রায়) (সূত্র: জনতার মুখপত্র, ১ নভেম্বর ১৯৭৫)

ভারতীয় অমৃতবাজার দৈনিক (১২ মে ১৯৭৪) থেকে, ভারত সরকার ২-২.৫ শত রেলওয়ে ওয়াগন ভর্তি অস্ত্র-শস্ত্র স্হানান্তর করেছে, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৭০০ কোটি টাকা। এছাড়াও, চীন থেকে জয়দেবপুর অর্ডিনেন্স ফ্যাক্টরী থেকে অস্ত্র নির্মানের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ভারতে স্হানান্তরিত হয়। (অলি আহাদ: জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে '৭৫, পৃ:৫২৮-৫৩১)

২) পাটের মুকুট স্হানান্তর:
বাংলাদেশের পরিবর্তে রাতারাতি আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের মুকুট পরল ভারত। ফারাক্কা চুক্তির নামে বাংলাদেশকে মরুভূমি করার চক্রান্ত, টাকা বদলের নামে অর্থনীতি ধ্বংস, বর্ডার বাণিজ্যের নামে ভারতের বস্তপঁচা মালের বাজার। বাংলাদেশের শিল্প কারখানা থেকে যন্ত্রাংশ চুরি করে আগরতলায় পাঁচটি নতুন পাটকল স্হাপন! (আখতারুল আলম, দু:শাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃ: ১১৫-১১৬)

৩) সৌখিন দেশপ্রেমিকদের অর্থনৈতিক শোষণ:
স্বাধীনতার পর কি হলো? এক সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা চলল অর্থনীতি ধ্বংসের। উৎপাদন কমে গেল, শ্রমিক অসন্তোষ বেড়ে গেল। কলকারখানা ধ্বংস হলো। গুপ্ত হত্যা শুরু হল। কোন এক অশুভ শক্তি যেন বাংলার মানুষকে নিয়ে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠল। সেসব সৌখিন মানুষ চারখার করে দিল বাংলার মানুষের স্বপ্নসাধ। চোরা কারবারের লাইন তারা আগেই করে রেখেছিল। প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সরকারী কর্মচারী, অসাধু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সরকারী সমর্থনপুষ্ট না হলে এমন অবৈধ ব্যবসা সম্ভব না ... শুধু তাই নয়, ভেজালে চেয়ে গেল সারা দেশ।
দীর্ঘ ৩ টি বছর আমরা এমনটি প্রত্যক্ষ করেছি। আমাদের চোখের সামনে চাল-পাট পাচার হয়ে গেছে সীমান্তের ওপারে, আর বাংলার অসহায় মানুষ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বের দ্বারে দ্বারে। (মেজর অব: মো: রফিকুল ইসলাম বীরোত্তম: :শাসনের ১৩৩৮ রজনী, পৃ: ১১৯-১২৬)

৪) শক্তিশালী চোরাচালানী সিন্ডিকেট:
সীমান্তের ১০ মাইল এলাকা ট্রেডের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হলো। এর ফলে ভারতের সাথে চোরাচালানের মুক্ত এলাকা গড়ে উঠে। পাচার হয়ে যায় দেশের সম্পদ। (আবুল মনসুর আহমদ: আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর, পৃ: ৪৯৮)
এর ফলে চোরাচালানীদের যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, তা আজও আছে এবং তা দেশের অনুন্নত অর্থনীতির জন্য দায়ী।

৫) তাজুদ্দীন কর্তৃক মুদ্রামান হ্রাস:
এক অভাবনীয় ও অচিন্তনীয় ঘটনা। ১ জানুয়ারী ১৯৭২ সালে তাজুদ্দিন এক আদেশ বলে দেশের মুদ্রামান ৬৬% হ্রাস করেন। এর আগে বাংলাদেশের মুদ্রামান ভারতের চেয়ে বেশি ছিল। তাজুদ্ধীনের আদেশে দেশের অর্থনীতি মুদ্রাস্ফিতি বেড়ে গেল ও জনজীবনে দ্রব্যমূল্য হল আকাশচুম্বী।
এছাড়া ভারত-বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূরক আখ্যা দিয়ে ভারতে পাট বিক্রির নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল। নাম মাত্রমূল্যে বা জালটাকায় পাট পাচার শুরু হল। (অলি আহাদ: জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে '৭৫, পৃ:৫২৮-৫৩১)

৬) ভারত জালনোট ছেপে অর্থনীতি ধ্বংসের আয়োজন করে:
বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া ধনসম্পদের পরিবর্তে আরো যে সব মহামূল্যমান (!) ধনসম্পদ আসত সেগুলোর মধ্যে ছিল ভারতে ছাপা বাংলাদেশী জাল নোট। এর পরিণাম এতই ভয়াবহ যে তাজুদ্দীন বলতে বাধ্য হয়েছেন, 'জালনোট আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করিয়া দিয়াছে'। (আব্দুর রহিম আজাদ: ৭১ এর গণহত্যার নায়ক কে: পৃ: ৫২)

৬) ক্ষমতাসীনদের স্বীকারোক্তি:
বাংলাদেশের কতিপয় নেতার বিদেশে ব্যাংক ব্যালান্স রয়েছে, তারা অনবরত দেশ থেকে মুদ্রা পাচার করে দিচ্ছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক মেরুদ্ন্ড ভেঙ্গে পড়ছে। দেশের মানুষ কাপড়ের অভাবে মরছে, আর এক শ্রেণীর মানুষ লন্ডনে কাপড়ের কল চালু করছে। (তাজুদ্দীন, জনপদ ১১ মার্চ ১৯৭৪)

দেশ স্বাধীনের দুদিনেই শুরু হল হরিলুট। শিল্প কারখানায় অস্তিত্বহীন শ্রমিকের নামে মাহিনা লুট, পাটকলগুলিতে যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে লুট, বস্রশিল্পে তুলা ও সুতা কেনায় কোটি কোটি টাকা লুট, ১৯৭১ এর অবাঙ্গালীদের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে লুট, ১৬ ডিভিশন নামের ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার নামে সরকারী সম্পদ লুট। (এম এ মোহায়মেন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ, পৃ ১৪, ৪৪)

৭) কলকাতায় রাজনৈতিক নেতাদের যৌন ট্রিপ, গায়ক ও নর্তকী আমদানী:

'কয়েকদিন আগে তোমাদের কিছু নেতা কলকাতা এসেছিল কিছু নমকরা গায়ক-নর্তকী ভাড়া করার জন্য। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে এরকম কাজ শুধু অনৈতিকও নয়, অমার্জনীয়। দু:খ হয়, তোমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে আমারও কিছু অবদান ছিল।' (কবি বুদ্ধদেব বসু, আমার দেশ : আমার স্বাধীনতা, পাক্ষিক পালাবদল)

লুটপাট সমিতির সদস্যরা তখন কোলকাতার অভিজাত পাড়ার হোটেল, বার, রেস্তোরায় বেহিসেবী খরচের জন্য 'জয় বাংলার শেঠ' উপাধী পেয়েছিল। সেখানে মুক্তহস্তে খরচ করতো, বিলাসবহুল ফ্লাটে থাকতো। সন্ধ্যের পরে হোটেল গ্র্যান্ড, প্রিন্সেস, ম্যাগস, ব্লু ফক্স, মলিন র্যু, হিন্দুস্হান ইন্টারন্যাশনালে দামী পানীয় ও খাবারের সঙ্গে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি উপভোগ করতো। সারার রাত পার করে ভোর বেলা ফিরতো নিজেছের বিলাসবহুল ফ্লাটে। (শরীফুল হক ডালিম, যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি, পৃ ১২০-১২২। নোট: ডালিম বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত খুনি, বিতর্কিত। তার বক্তব্যের সাথে কবি বুদ্ধদেব বসুর বক্তব্য মিলে যাওয়ায় এই সূত্র রাখা হলো।)

পরিশেষে, উইকি কি ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের উপরের প্রকৃত কারণগুলো লিখবে, নাকি গঁদবাঁধা দু-একটি দূর্বল ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষদের বিভ্রান্ত করবে? তবে উইকি যাই করুক, আমাদের আমাদের ইতিহাস জেনে শিক্ষা নিতে হবে।
(লেখক.গবেষক)
Click This Link
Kiriman 2
Maggie menulispada 27 Januari 2009 jam 19:34
que te fumaste :O?!
Kiriman 3
Benjamin menulispada 05 Februari 2009 jam 16:15
N'importe quoi ça lol
Kiriman 4
Fahrizal menulispada 24 Februari 2009 jam 10:40
naon ieu artina euy???
Kiriman 5
Susan menulispada 30 April 2009 jam 11:50
Not sure what that is about, but if you have issues with information being wrong in Wikipedia, you can edit it, you know. :) As long as you have reliable sources that back up what you're saying.